২০বিশে সয়লাব ইয়াবা


মাদক দ্রব্য গ্রহনের ফলে মস্তিস্কে বিরূপ ক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের আচার-আচরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন করে, যা মন মানসিকতাকে বিভ্রান্তিতে ফেলে সমাজে নানা ধরনের অপরাধ সংঘঠনে ব্যাপক ভুমিকা রাখে এই দ্রব্য।

প্রধানত মাদক দ্রব্য ২ দুই ধরনের

১. প্রাকৃতিক মাদক দ্রব্য ২.রাসায়নিক মাদক দ্রব্য

২০১৮ সালের বাংলাদেশ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর সুত্র বলে দেশে বিভিন্ন সময়ে এ যাবৎকালে ২৪ ধরনের মাদক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

যার মধ্যে প্রথম স্থানে আছে ইয়াবা নামক ভয়াবহ মাদক দ্রব্য আর দ্বিতীয় স্থানে আছে ফেনসিডিল এছাড়াওহেরোইন

গাঁজা,চোলাই মদ,বিদেশী মদ,বিয়ার,রেক্টিফাইড স্পিরিট,ডিনের্চাড স্পিরিট, ভাং, চড়স, আফিম, পথোডিন, মরফিন, আইচফিল, জাওয়া, কোডিন ট্যাবলেট, ভায়াগ্রা, সানাগ্রা, টলুইন

এছাড়াও ইদানিংকালে ঘাম, ব্যবহৃত পায়ের মোজা ধোয়া পানি ও বিভিন্ন তামাকজাত দ্রব্য সমাজের নাকের ডগায়ই ব্যবহৃত হচ্ছে।

এবার আসুন আমরা একনম্বরে অবস্থানকারী ইয়াবার খোজখবর নেই..!

ফাদার অব নেশন মিয়ানমারের মেজর জেনারেল অংসান যার কন্যা কুখ্যাত লেডী অংসান সুচী’র দেশেই মুলত এই ইয়াবার জন্ম হয় এবং হচ্ছে।

যা আমাদের দেশের মেধাশক্তিকে ধংসের জন্য ১৯৯৭ সাল থেকে আসা শুরু করলেও ২০০০ সাল থেকে আর বন্ধ করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। ২০০৬’র পর থেকে আমাদের ইয়াবা সেবনের সংখ্যা মারাত্নক আকারে ধারন করছেন বলে মনে করছেন দেশের সামাজিক সংগঠন ও বিশেষজ্ঞ ব্যাক্তিবর্গবৃন্দ।

তবে ইয়াবা বাদে অন্যান্য মাদক দ্রব্য আমাদেরকে সবথেকে বেশি দিয়ে থাকেন আমাদের পরম বন্ধু মাহরাষ্ট্র ভারত । সুত্রঃ বাংলাদেশ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর।

র‌্যাবের সুত্রে ডয়েচে ভেলে বলছে, আান্তজার্তিক মাদক চালান রুট গোল্ডেন ট্রয়াঙ্গাল (মিয়ানমার-থাইল্যান্ড-লাওস) এবং গোল্ডেন ক্রিসেন্ট (পাকিস্তান-আফগান-ইরান) এর কেন্দ্রবিন্দু হল বাংলাদেশ। যার সুবাদে প্রায় ৫০ টি পয়েন্ট থেকে বাংলাদেশে নিয়মিত ইয়াবা ঢুকছে।

আসুন দেখি বাংলাদেশ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন কি বলছে-

গুরুত্বপূর্ন বিষয় হল ২০১৮ সালের পর থেকে  এ পর্যন্ত বাংলাদেশ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর আর কোন বার্ষিক প্রতিবেদনই প্রকাশ করেননি।

দেশের গনমাধ্যম বলছে, বর্তমনে ইয়াবা সেবন কারীর সংখ্যা ২৫(পঁচিশ) লাখেরও বেশি তবে সাধারন মানুষের ধারনা করা তা ১০ মিলিয়ন (এক কোটির) কম নয়।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রনে সরকার বিভিন্ন কর্মসুচি যেমন পোস্টার তৈরি, লিফলেট বিতরন, সভা-সেমিনার ও এলাকায় এলাকায় মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করার পাশাপাশি আইন অনুযায়ী বিভিন্ন শাস্তি প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন যা অবশ্যই প্রসংশনীয়।

এমনকি ২০১৮ সালের পর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪০০ জনের মত বিভিন্ন অভিযানে নিহতও হয়েছে। এতকিছুর পরও ’বাবা’ নামের খ্যাত এই ছোট্র ইয়াবা ট্যাবলেট কে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হচ্ছে না নানান কারনেই ।

আমার ধারনা এসব চোরাচালানের সাথে দেশের রাঘববোয়ালরা জড়িত বলেই মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন সম্ভব হচ্ছে না।

আইন শৃংখলা বাহিনী ২০১৪ – ২০১৯ পর্যন্ত সর্বোমোট ৭৩ হাজার ১৯১ টি মামলা রেকর্ড করে, যাতে ৭,৮৭৭ জনকে আসামী করা হয়। মামলাগুলোর কি অবস্থা তা না হয় অন্য একদিন লিখব। সরকারী হিসেব মতে, সরকারী ও বেসরকারী নিরাময় কেন্দ্রেগুলোতে বর্তমানে মোট ৩৮,৬০০ মাদকাসক্ত চিকিৎসা নিচ্ছেন।

২০১৯ ও ২০১০ সালে দেশের আইন শৃংখলা বাহিনী কি পরিমান ইয়াবা উদ্ধার করছেন তার সঠিক হিসেব বাংলাদেশ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর গত দুবছরে দাখিল করেনি। তবে ইয়াবা ব্যাতিত অন্যান্য মাদক দ্রব্যের হিসেব ওয়েবসাইটের মাসিক বুলেটিনে দাখিল করেছেন।

ধারনা করা হচ্ছে তার সংখ্যা বিগত সকল বছরের সকল রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে। কালের কন্ঠ তাদের একটি প্রতিবেদনে বলছে জানুয়ারী-২০১৯ থেকে ফেব্রুয়ারী-২০২০ পর্যন্ত দেশে ঢুকছে টোটাল ৩০ কোটি পিস ইয়াবা যার বাজার মুল্য রয়েছে ৯০০ কোটি টাকারও বেশি। চলতি বছরে শুধুমাত্র র‌্যাবই উদ্ধার করেছেন ১ কোটি পিস ইয়াবা। অন্যান্য আইন শৃংখলা বাহিনীর হিসেব করলে তা সর্বোমোট তিন কোটি তেপ্পান্ন লাখ পচিঁশ হাজার পিসে দাড়ায়।

সংখ্যার দিক থেকে কি পরিমান ইয়াবা গত পাচঁ বছরে বাংলাদেশে আসছে ? আসুন তাহলে দেখি বাংলাদেশ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের প্রতিবেদন কি বলছে-

যা দেশের প্রথম সারির কাগজ দৈনিক প্রথম আলো’র মতে ৪০ কোটিরও বেশি। United Nations Office on Drugs and Crime (UNODC)  তাদের প্রতিবেদনে বলছেন-২০০৮’র থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ইয়াবার ব্যাবহার বাড়ছে ৮০ শতাংশ। তার শুধুমাত্র ২০১৬ সালেই বেড়েছে ৪৬ শতাংশ।

শুরুতেই বলেছিলাম এই বাবা খ্যাত ইয়াবা’র জন্মস্থান মিয়ানমার। উইকিডিয়া বলছে, সুচীর দেশের ওয়া এবং কোকাং নামের আদিবাসী সম্প্রদায় এই ইয়াবার প্রথম উদ্ভাবক ও উৎপাদনকরী । তাহারা বংশগতভাবেই নাকি আফিম ও হেরোইন উৎপাদনে জড়িত ছিল। মিয়ানমার থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইয়াবা সরবরাহ হয়ে থাকলেও মিয়ানমারের সবচাইতে বড় মার্কেটপ্লেস হল আমাদের এই সবুজ শ্যামল সোনার বাংলাদশ। নতুন করে আমাদের জন্য আরো একশ্রেনির ব্যাবসায়ী এই মরন নাশক ট্যাবলেট ইয়াবা সাপ্লাই দিচ্ছে আমাদের আশ্রিতা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কিছু অসাধু লোক। তাদেরকে কোনভাবেই নিয়ন্ত্রন করা যাচ্ছে না।

আমাদের এই স্বাধীন ভুখন্ডকে সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে সকল ধরনের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রনে সকল পর্যায়ের নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।

মু.মাসুদ আলম  রুবেল
ইমেইল[email protected]

[email protected] November 14, 2021


Hello Guys !!

I am Md. Masud Alam Habib, I live in Gazipur. My home district Patuakhali. I have a BSc degree in computer science & Technology (CSE). I am an ERP specialist. I have 3 years of experience in ERP implementation in the industry.I also do web design and development and WordPress theme development. I'm always ready to take new challenges and look for the best possible solution with the best time complexity. Optimizing my time and organizing projects using productive tools are my favorite things to do which help me to speed up my workflow and ultimately make me a productive person in my daily life.